1. [email protected] : শেয়ার সংবাদ প্রতিবেদক : শেয়ার সংবাদ প্রতিবেদক
  2. [email protected] : শেয়ারসংবাদ.কম : শেয়ারসংবাদ.কম
  3. [email protected] : Zahir Islam : Zahir Islam
  4. [email protected] : muzahid : muzahid
  5. [email protected] : nayan : nayan
  6. [email protected] : khadija : khadija khadija
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ারবাজারে তিন শেয়ারের অবিশ্বাস্য উত্থান

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫

দেশের শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং এবং শাইনপুকুর সিরামিকস—এই তিনটি কোম্পানির শেয়ারে মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে দ্বিগুণের বেশি মুনাফা হয়েছে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মৌলিক কোন কারণ বা মূল্য সংবেদনশীল কোন তথ্য নেই। বরং কিছু বড় বিনিয়োগকারীর শেয়ার দাম বৃদ্ধির কৌশলই মূল চালিকা শক্তি হিসাবে কাজ করেছে।

এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল

গত বছরের অক্টোবরে শেষ সপ্তাহ থেকে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলের শেয়ার দাম ফেসভ্যালু অর্থাৎ ১০ টাকার নিচে লেনদেন হচ্ছিল। ২৯ অক্টোবর শেয়ারটির ক্লোজিং প্রাইস ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা, এবং এরপর প্রায় ৩ মাস একই দামে শেয়ারটি কেনাবেচা হয়েছে।

১৩ ফেব্রুয়ারি শেয়ারটি ৯ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়। তারপর থেকে শেয়ারটির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। গত ২০ মার্চ শেয়ারটির দাম উঠে ৩১ টাকা ৩৫ পয়সায় পৌঁছে, অর্থাৎ এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে দাম প্রায় আড়াই গুণ বেড়ে যায়। সর্বশেষ শেয়ারটি ২৯ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছিল এবং বর্তমানে এটি ফিডিং প্রক্রিয়াধীন।

দুই বছর আগে কোম্পানির শেয়ার ৩৩ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছিল। এটি ‘বি’ গ্রুপের শেয়ার এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে কোম্পানিটি ৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল।

খুলনা পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং

দুই বছর আগে খুলনা পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের শেয়ার মূল্য ৯ টাকার নিচে লেনদেন হয়েছিল। তারপর ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শেয়ারটি নিয়ে কারসাজির খেলাধুলা শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেয়ারটির দাম বেড়ে ৫৭ টাকায় পৌঁছে। কিন্তু এরপর থেকে শেয়ারটির দাম ধারাবাহিকভাবে পতনের পথে যায়, এবং গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শেয়ারটি ৭ টাকা ২০ পয়সায় নেমে আসে।

এরপর আবারও কারসাজির আভাস দেখা দেয়, যখন ৪ ফেব্রুয়ারিতে শেয়ারটি ৮ টাকার নিচ থেকে এক লাফে ৩৩ টাকা ২০ পয়সায় উঠানো হয়। অর্থাৎ, দুই মাসের কম সময়ের মধ্যে শেয়ারটির দাম প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে এই শেয়ারটির ফিডিং প্রক্রিয়া চলছে। বাজারের অস্থিরতার ফলে বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপ ধরে রাখতে কারসাজিকারীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। সর্বশেষ, শেয়ারটির লেনদেন দাম ২৫ টাকা ৯০ পয়সা।

এই কোম্পানিটি ‘জেড’ গ্রুপের শেয়ার এবং সর্বশেষ ২০২০ সালে মাত্র ০.২৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। এর পর থেকে বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এমনকি কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনও দীর্ঘ দিন ধরে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

শাইনপুকুর সিরামিকস

২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ার ৪৫ টাকায় লেনদেন হয়েছিল। তবে এরপর ২৮ অক্টোবর শেয়ারটির দাম ফেসভ্যালুর কাছাকাছি ১০ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে আসে। নভেম্বরে শেয়ারটির দাম ১৫ টাকায় ওঠানামা করতে থাকে, পরে পুনরায় ১১ টাকার ঘরেও চলে যায়।

এরপর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শেয়ারটির দামে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। ২৩ মার্চ শেয়ারটি ২৭ টাকার ওপরে লেনদেন হয় এবং সর্বশেষ ক্লোজিং ২৬ টাকা ২০ পয়সায় হয়েছে।

বর্তমানে, শেয়ারটি নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে যে এটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বাজারে কিছু জল্পনা আছে যে বিএনপি ঘরানার সাবেক একটি সংসদ সদস্য কোম্পানিটি কিনে নিচ্ছেন এবং তিনিই শেয়ারটির দাম বৃদ্ধির পেছনে মূল প্রভাব ফেলছেন।

এই কোম্পানিটি ‘বি’ গ্রুপের একটি শেয়ার এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে কোম্পানিটি ২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণ করেছে।

শেয়ার দিয়ে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ